চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী
মূলভাব : স্বভাবগতভাবে যে ব্যক্তি গভীর অসৎ, নীতিহীন বা অপরাধপ্রবণ, তার কাছে কোনো নৈতিক উপদেশ, সততার বাণী কিংবা ধর্মের পবিত্র কাহিনী সম্পূর্ণ অর্থহীন। কুঅভ্যাস ও হীন স্বার্থের কাছে যার বিবেক বন্দি, উপদেশ দিয়ে তার চরিত্রের কোনো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
সম্প্রসারিত ভাব : মানবচরিত্রকে সুন্দর, মার্জিত ও সৎ পথে পরিচালিত করার জন্য নীতিবাক্য ও ধর্মীয় উপদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। সুশিক্ষার আলো ও ভালো কথা মানুষের ভেতরের সুপ্ত মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করে। কিন্তু সমাজ বা সংসারে এমন কিছু নিকৃষ্ট শ্রেণির মানুষ দেখা যায়, যাদের কুপ্রবৃত্তি ও অপরাধমূলক মানসিকতা অস্থিমজ্জায় মিশে গেছে। অন্যায় ও পাপকাজই যাদের একমাত্র নেশা ও পেশা, তাদের কাছে আদর্শের কথা বলা আর অরণ্যে রোদন করা একই কথা। চুরির সময় তাকে পরম ধার্মিকের মতো শত ধর্মের কাহিনী ও পাপের পরিণতির কথা শোনালেও সে তা কখনো আমলে নেবে না। কারণ তার মন মজে আছে পরের ধন আত্মসাৎ করার হীন চিন্তায়। একইভাবে, বাস্তব জীবনে একজন চরম দুর্নীতিপরায়ণ, কালোবাজারি, সুদখোর কিংবা অসৎ মানুষকে নীতি, সততা, পরকাল বা পাপ-পণ্যের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হয় না। হিতোপদেশ কেবল তাদের মনেই আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে, যাদের ভেতরে নূন্যতম বিবেকবোধ, লৌকিক লজ্জা বা অনুশোচনা অবশিষ্ট থাকে। কিন্তু বিবেকহীন, নীতিভ্রষ্ট ও পঙ্কিলতায় ডুবে থাকা মানুষের স্বভাব কখনো শুধু মধুর বচনে বা ভালো কথায় পরিবর্তন করা যায় না। তারা নিজেদের হীন স্বার্থ ও পাশবিক আনন্দ চরিতার্থ করার জন্য চোখের পলকে সব ধরনের নীতি, আদর্শ, আইন ও ধর্মকে বিজর্জন দিতে পারে।
মন্তব্য : অন্যায় ও অপরাধের পথ বেছে নেওয়া কুস্বভাবের মানুষকে শুধু মৌখিক উপদেশ দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করা এক ধরনের বোকামি। সমাজ, রাষ্ট্র ও মানবতার কল্যাণে এদের কেবল ধর্মের বাণী না শুনিয়ে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাই একমাত্র বাস্তবসম্মত ও যুক্তযুক্ত পথ।
Comments (0)