শ্রদ্ধেয় সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি উপস্থিত সুধীমণ্ডলী আমার শুভেচ্ছা
নিন। দিগ্বিজয়ী নেপোলিয়ন বলেছিলেন,
সুধীমণ্ডলী,
আজকের এ আলোচনা সভা বাঙালি জাতির জাতীয় উন্নয়নের নিরিখে অত্যন্ত
তাৎপর্যপূর্ণ। নারী-পুরুষ সমাজ-দেহের দুটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ – জগৎ ও জীবনের
পরিপূরক। যদিও দেশ ও জাতি গঠনে উভয়ের সমান ভূমিকা রয়েছে। তাই যথার্থ শিক্ষা
নিয়ে পুরুষের পাশাপাশি নারীকে সমান তালে জাতি গঠনে ভূমিকা নিতে হবে। কিন্তু
আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী এবং এর বিরাট অংশ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত।
সুধীবৃন্দ,
আমাদের এ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অর্ধাংশ নারীসমাজকে যথার্থ শিক্ষায় শিক্ষিত করে
গড়ে তুলতে পারলে তারা আমাদের জাতীয় জীবনে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। বেগম
রোকেয়া, ইলামিত্র, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার প্রমুখ অতি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত
হয়ে সমাজের মহান দায়িত্ব পালন করেছেন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে, চুয়ান্নর
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে, বাষট্টি, ছেষট্টি, ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে, একাত্তরের
মুক্তিযুদ্ধে ও নব্বইয়ের গণবিস্ফোরণে নারীরা বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
শিক্ষিত নারী যে বিকাশশীল পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতির সকল প্রেরণার উৎস
ও প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে তা আমরা মনেই করি না। অথচ আজকের পৃথিবীর দিকে
তাকালে দেখা যায় চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিচারক, প্রশাসক, আইনজীবী, পুলিশ
কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা বাহিনী এমনকি বৈমানিকের ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নারীরা
নিজেদের নিয়োজিত করে তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেছে। সমাজ প্রগতিতে
এটা শুভ লক্ষণ।
প্রিয় সুধী,
প্রগতিশীল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য শিক্ষার ব্যাপক প্রসার অত্যন্ত প্রয়োজন।
সেখানে বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধাংশকে অশিক্ষার অন্ধকারে রেখে গণতন্ত্রের
সাফল্য আশা করা মূঢ়তার সামিল। তাই সর্বাগ্রে চাই সে মৃঢ়তা থেকে মুক্তি চাই
নারী শিক্ষার পূর্ণ অধিকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নারী শিক্ষার
প্রসার ঘটানো হোক এই আশাবাদ ব্যক্ত করে শেষ করছি।
সবাইকে ধন্যবাদ।
Comments (0)