সাধারণ জ্ঞান : পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে জুনেই। উদ্বোধনের তারিখ ২৫ জুন ২০২২। পদ্মা সেতু সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ-

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নাম — পদ্মা বহুমুখী সেতু

পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ — ৬.১৫ কিলোমিটার

পদ্মা সেতুর প্রস্থ — ২২ মিটার

পানির স্তর থেকে পদ্মা সেতুর উচ্চতা — ৬০ ফুট (প্রায় ১৮ মিটার)

পদ্মা সেতুর মোট পিলারের সংখ্যা — ৪২টি

পদ্মা সেতুর পিলারের নিচে স্টিলের পাইল বসানো হয়েছে — ১২২ মিটার গভীরে

পদ্মা সেতুর পাইল বা মাটির গভীরে বসানো ভিত্তি এখন পর্যন্ত বিশ্বে গভীরতম — সর্বোচ্চ ১২২ মিটার

পদ্মা সেতুর পাইল-সংক্রান্ত সমস্যায় গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করে ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান — COWI

প্রতিটি পিলারের জন্য পাইলিং করা হয়েছে — ছয়টি (মাটি নরম হওয়ায় ২২টি পিলারের পেইলসংখ্যা সাতটি করে)

পদ্মা সেতুর পিলারের পাইল বসানোর জন্য হাইড্রোলিক হাতুড়ি (হ্যামার) নিয়ে আসা হয়েছিল যে দেশ থেকে — জার্মানি (সবচেয়ে বড় হ্যামারটির ক্ষমতা তিন হাজার কিলোজুল)

পদ্মা সেতুতে ১৫০ মিটার দৈর্ঘের স্প্যান বসানো হয়েছে — ৪১টি

পদ্মা সেতুর স্প্যান তৈরি হয়েছে চীনের হুবেই প্রদেশের — শিংহুয়াংডাও শহরে

পদ্মা সেতুতে স্প্যান বসানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভাসমান ক্রেন — তিয়ান-ই (ক্রেনটির ধারণক্ষমতা ৩ হাজার ৬০০ টন আর স্প্যানের ওজন ৩ হাজার ২০০ টন)

পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তের (মাওয়া-জাজিরা) সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ — ১৪ কিলোমিটার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল সেতু নির্মাণ ও নদীশাসন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন — ১২ ডিসেম্বর ২০১৫

পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসনের কাজ শুরু হয় — ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে

পদ্মা সেতু প্রকল্পে নদীশাসনের কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি হয় — ৮ হাজার ৭০৮ কোটি টাকার (১১০ কোটি মার্কিন ডলার)

পদ্মা সেতুর দুই পাড়ে নদীশাসন করা হয়েছে — ১২ কিলোমিটার

বিশ্বের প্রথম সেতু হিসেবে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে — কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে

পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে রয়েছে — মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরা

পদ্মা সেতুর নকশা তৈরি করেছে আমেরিকান কোম্পানি — Maunsell Ltd. AECOM NZL Architecture, Engineering, Consulting, Operations and Maintenance (AECOM)

পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান — এম শামীম জেড বসুনিয়া

পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক দলে কাজ করছেন কমবেশি — ১৪টি দেশের প্রকৌশলীরা

পদ্মা সেতু প্রকল্পে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি রয়েছে — ১১ সদস্যের (কয়েক মাস পরপর বৈঠক করে কমিটি প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি বিষয়ে পরামর্শ দেন)

পদ্মা সেতুতে রেলপথ সংযোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় — ১১ জানুয়ারি ২০১১

পদ্মা সেতুতে রেললাইন থাকবে — একটি (এর ওপর দিয়ে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ-দুই ধরনের ট্রেন চলাচলেরই ব্যবস্থা থাকবে)

পদ্মা সেতুসংশ্লিষ্ট ঢাকা থেকে যশোর রেল প্রকল্পের অর্থায়ন করছে — চীন (জি টু জি ভিত্তিতে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড)

পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প রকনেকে পাস হয় — ৩ মে ২০১৬

পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্পে ২৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা অর্থসহায়তা দিচ্ছে — চীনের এক্সিম ব্যাংক

পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প তত্ত্বাবধান করছে — বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বুয়েট

পদ্মা সেতুসংশ্লিষ্ট ঢাকা থেকে যশোর রেল প্রকল্পের দৈর্ঘ — ১৭২ কিলোমিটার (রেল প্রকল্পের উদ্বোধন-১৪ অক্টোবর ২০১৮)

পদ্মা সেতুতে রেললাইন বসানোর জন্য বিশেষ ধরনের কংক্রিট স্ল্যাব বসাতে হবে — ২ হাজার ৯৫৯টি

পদ্মা সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান বসানো হয় — ৩০সেপ্টেম্বর ২০১৭

পদ্মা সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটির ওপর সর্বশেষ ৪১তম স্প্যানটি বসানো হয় — ১০ডিসেম্বর ২০২০

সর্বশেষ স্প্যানটি স্থাপনের আগে এটির এক পাশে টাঙ্গানো হয় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, অন্য পাশে — চীনের পতাকা

পদ্মা সেতু তৈরির প্রথম প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয় — ১৯৯৯ সালে

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন — ৪ জুলাই ২০০১

পদ্মা সেতু নির্মাণ করে লাভ কী হবে, তা নিয়ে ২০০৯ সালে আলাদা সমীক্ষা করে — এডিবি ও জাপানের সহযোগিতা সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)

২০০৯ সালে এডিবি ও জাপানের সহযোগিতা সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সমীক্ষায় দেখা যায়, পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগের অর্থনৈতিক প্রভাব বা ইকোনমিক রেট অব রিটার্ন (ইআরআর) দাঁড়াবে বছরে — ১৮-২২ শতাংশ

‘পদ্মা বহুমুখী সেতু’ প্রকল্পের পরিচালক — মো. শফিকুল ইসলাম

পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয় — ২৮ এপ্রিল ২০১১

বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণ চুক্তি বাতিল করে — ৩০ জুন ২০১২

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় — ৯ জুলাই ২০১২

বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংককে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের অনুরোধ ফিরিয়ে নেয় — ৩১ জানুয়ারি ২০১৩

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত দরপত্র আহ্বান করা হয় — জুন ২০১৩ সালে

পদ্মা সেতু নির্মাণে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি হয় — ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকার

পদ্মা সেতু প্রকল্পে তদারক করছে — বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন (কেইসি)

পদ্মায় মূল সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক — দেওয়ান মোহাম্মদ আবদুল কাদের

পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবে দক্ষিণাঞ্চলের — ২১টি জেলার

পদ্মা সেতু চালু হলে সারা দেশের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হওয়ার পথ উন্মুক্ত হবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের — ২৯ জেলার সঙ্গে

পদ্মা সেতুর অবস্থান হচ্ছে — ৩টি জেলায় (মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর)

পদ্মা সেতুর সঙ্গে সংযোগ হবে — দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাংশের

পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট অংশ — ৩.১৮ কিলোমিটার (মূল সেতুর স্থলভাগের অংশকে ভায়াডাক্ট বলে, যেখানে এসে বাস ও ট্রেনের পথ আলাদা হয়ে মাটিতে মিশবে)

ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটারের এক্সপ্রেসওয়েটির কাজ শুরু হয় — ২০১৬ সালে

ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটারের এক্সপ্রেসওয়ে খুলে দেওয়া হয় গত — ১২ মার্চ ২০২০

ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ব্যয় হয়েছে — প্রায় ১১ হাজার ৪ কোটি টাকা

বিশ্বের সড়ক সেতুর তালিকায় পদ্মা সেতুর অবস্থান — ২৫তম (এশিয়ায় দ্বিতীয়। বিশে প্রথম হুং জুং বে সেতু, চীন-৩৫ কিলোমিটার)

পদ্মা সেতুতে ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিংয়ের’ সক্ষমতা হচ্ছে — ১০ হাজার টন (এখন পর্যন্ত কোনো সেতুতে এমন সক্ষমতার বিয়ারিং লাগানো হয়নি)

পদ্মা সেতুর ভূমিকম্পসহনীয় মাত্রা রিখটার স্কেলে — ৯ মাত্রা পর্যন্ত

পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য সরকার সেতু বিভাগিকে ১% সুদে ঋণ দিয়েছে- ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা (৩৫ বছরের মধ্যে পরিশোধ করবে সেতু বিভাগ)

পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের জিডিপি বৃদ্ধি পাবে — ১দশমিক ২৩ শতাংশ হারে

পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে — ২ দশমিক ৩ শতাংশ

পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে দারিদ্র বিমোচনের হার বাড়বে — ০.৮৪ শতাংশ

পদ্মা সেতুর ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব বসাতে হবে — ২ হাজার ৯১৭টি

পদ্মা সেতু দিয়ে গ্যাস পাইপলাইন যাবে — ৭৬০ মিলিমিটার ব্যাসার্ধের

পদ্মা সেতু দিয়ে ফাইবার অপটিক ও টেলিফোন কেবলের লাইন বসানো হবে — ১৫০ মিলিমিটার ব্যাসার্ধের

প্রকল্পের কাজে ব্যবহিত স্টিলের সব কাঠামো — চীন থেকে এসেছে

পদ্মা সেতুর রেলের গার্ডার (স্ট্রিনজার) এসেছে — লুক্সেমবার্গ থেকে

পদ্মা সেতুর মূল কাঠামোর রং হবে — ধূসর

পদ্মা সেতু দেখতে অনেকটা ইংরেজি বর্ণ — এস-এর মতো

সর্বশেষ প্রাক্কালিত ব্যয় — ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা


Leave a Reply

Your email address will not be published.