প্রবন্ধ রচনা: আমার মা [৯ পয়েন্ট]

আমার মা

ভূমিকা

এ পৃথিবীতে মায়ের মত আপনজন আর কেউ নেই। একমাত্র মা ই পারে সন্তানের সুখের জন্য কষ্ট লাঘবের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে। তাইতো কবি বলেছেন-

মা কথাটি ছোট্ট অতি
কিন্তু যেন ভাই
ইহার চেয়ে নাম যে মধুর
তিন ভুবনে নাই।

 

মায়ের স্নেহ

মায়ের স্নেহের কোন নির্দিষ্ট পরিধি বা সীমা নেই। প্রতিটি সন্তানের কাছে তার নিজের মা সবচেয়ে মমতাময়ী মায়ের মমতা ও স্নেহ উপমাহীন অমূল্য। পৃথিবীতে এমন কোন সম্পদ নেই যা দিয়ে মায়ের স্নেহ ক্রয় করা যায়।

 

আমার মা : কবি বলেছেন

হেরিলে মায়ের মুখ
দূরে যায় সব দুখ।

 

আমার মা উচ্চ শিক্ষিতা শান্ত সৌম্য আদর্শ এক স্নেহময়ী নারী প্রতিমা। পেশায় একজন শিক্ষিকা। তিনি পরোপকারী সত্যবাদী এবং মিষ্টভাষী।

 

মায়ের গুণ

আমার মা অসাধারণ মেধারী ও বিচক্ষণ। সাংসারিক কাজে তার জুড়ি মেলা ভার। পৃথিবীর কারও সাথে আমার মায়ের তুলনা চলে না।

 

ছোটবেলায় মায়ের মমতা

আমি যখন নিতান্ত অবোধ ছিলাম কথা বলতে পারতাম না খেতে পারতাম না তখন আমার মা আমাকে তার স্নেহ দিয়ে যত্ন দিয়ে প্রতিপালন করেছেন। মা ছিলেন আমার প্রথম এবং একমাত্র গৃহ শিক্ষিকা। মা আমাকে ঘুম পাড়াবার ছলে যে কত গান কত ছড়া কত গল্প বলেছেন তার কোন ইয়ত্তা নেই। আমার মা আমার আদর্শ আমার কর্মের প্রেরণা আমার চলার গতি। আমি আমার মাকে খুব ভালবাসি।

 

মায়ের রোজকার জীবন

আমার মা পুরোদস্তুর একজন গৃহকত্রী। বাড়িতে সবার আগে ঘুম ভাঙ্গে মায়ের। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে মা প্রথমে ঠাকুর পুজো করে। এরপর থেকে সারাদিন মায়ের কাটে প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যে। ঠাকুর পুজো করে মা রান্না ঘরে প্রবেশ করে। সেখানে প্রথমে বাবার এবং আমার জন্য সকালের খাবার বানায়।
তারপর আমি এবং বাবা ঘুম থেকে উঠলে আমাকে সকালের দুধ এবং বাবা ঠাকুরমা এবং দাদুকে চা দিয়ে মা সেই সময়টুকু আমাদের সকলের সাথে খানিকক্ষণ গল্প করে। চা খাওয়া হয়ে গেলে আবার রান্নাঘরে ফিরে যায়। ইতিমধ্যে বাবা স্নান করে অফিসের জন্য তৈরি হন এবং আমি স্নান করবার পর মা আমাকে স্কুলে যাবার জন্য তৈরি করে দেন।আমি এবং বাবা একসাথে মায়ের হাতে তৈরি খাবার খেয়ে স্কুলে চলে যাই। আমি ও বাবা বেরিয়ে যাবার পর মা রান্নাঘরের কাজ সেরে আমাদের ঘর গোছগাছ করে খানিকক্ষণ বিশ্রাম করে নেয়।
আমার মা কাপড়ের ওপর খুব সুন্দর নকশা করতে পারেন। দুপুরবেলা খাওয়া দাওয়ার পর মায়ের অবসর কাটে কাঁথা কিংবা কাপড়ের উপর নকশা করে। বিকেল বেলা মা আমাদের ছাদে বাগান পরিচর্যা করে আমি স্কুল থেকে ফিরে আসার পর আমায় খেতে দেয়। এরপর সন্ধ্যেবেলা বাবা ফিরে এলে সবাইকে চা জলখাবার করে দিয়ে আমার পড়াশোনায় সাহায্য করে। এইভাবে সারাদিনব্যাপী ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে মায়ের রোজকার জীবন কাটে।

 

আমার জীবনে মা

সব ছেলেমেয়ের মতন আমার জীবনেরও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হল আমার মা। মাকে ছাড়া আমি একটি দিনও কল্পনা করতে পারিনা। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত সারাদিন আমার কাটে কোন না কোনভাবে মায়ের সান্নিধ্যে। মা আমায় সকালবেলা স্কুলের জন্য তৈরি করে টিফিনে রোজ কিছু না কিছু ভাল মন্দ খাবার বানিয়ে দেয়।তারপর বিকেলবেলা স্কুল থেকে ফিরে আসার পর আমি আমাদের ছাদের বাগান পরিচর্যায় মাকে সাহায্য করি। মা কখনো কখনো ছুটির দিনে দুপুরবেলা আমার সঙ্গে লুডো দাবা কিংবা ক্যারাম খেলে। সন্ধ্যেবেলা যখন মা আমায় পড়াতে বসে তখন মাঝে মধ্যে কথা না শুনলে বকাঝকা করে বটে কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আদরে ভরিয়ে দেয়। তারপর রাত্রিবেলা মায়ের হাতে খাওয়া দাওয়া করে মায়ের কাছে না শুলে আমার কোনদিন ঘুম আসেনা।

 

একটি স্মরণীয় ঘটনা

একবার শীতকালের শুরুতে আমার মরশুমি জ্বর এসেছিল। সাথে প্রচন্ড হাঁচি ও কাশি হচ্ছিল। রাতের দিকে জ্বর বাড়তে বাড়তে থার্মোমিটারে ১০২ তাপমাত্রা উঠলো। আমার মনে আছে মা সেদিন রাতে সারারাত জেগে আমার মাথার কাছে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিল।সেদিন রাতে ওষুধ খাওয়ানো থেকে শুরু করে পরের দিন ভোর পর্যন্ত যতক্ষণ আমার জ্বর না কমেছে ততক্ষণ মা কোলে মাথা নিয়ে জেগে বসেছিল। আমার প্রতি মায়ের এত স্নেহ ও ভালোবাসা আমায় সব সময় অভিভূত করে। রোজ সারাটা দিন মায়ের সান্নিধ্যে কাটালেও সেদিন রাতের কথা আমার সব সময় মনে থাকবে।

 

উপসংহার

একজন স্নেহশীল মমতাময়ী মা তার সন্তানকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশের জন্য উপহার দিতে পারে।।

Click to rate this post!
[Total: 0 Average: 0]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like